Saturday, May 2, 2020

জামায়াতের সংস্কারপন্থিরা বলছেন ‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার’ বাস্তবায়নের কথা

‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি) নামের এই দলের সদস্য সচিব হয়েছেন সাবেক জামায়াত নেতা ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু।
শনিবার সকালে বিজয় নগরে ‘সায়হাম স্কাই ভিউ’ টাওয়ারে ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের নাম ঘোষণার পাশাপাশি ২২২ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করা হয়।
এ দলে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগকারী এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, যিনি একজন সাবেক সচিব।
দলের নাম ঘোষণার আগে সূচনা বক্তব্যে মঞ্জু বলেন, “আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল একটি শোষণমুক্ত ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যারা এটা মানেন না বা বিশ্বাস করেন না এবং এই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে রাষ্ট্রকে ভুল পথে নিয়ে এসেছেন তারা কেউ দেশের প্রকৃত বন্ধু নন।
“আমরা মনে করি, একাত্তর সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিজয় আমাদের জাতীয় ঐক্যের অন্যতম পাটাতন। এবি পার্টি এই পাটাতনকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বদ্ধ পরিকর।”
মুক্তযুদ্ধ নিয়ে দলের অবস্থান সম্পর্কে জামায়াতের সাবেক এই নেতা বলেন, “আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ ও পবিত্র ধর্ম নিয়ে বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি রাজনৈতিক অনৈক্য বিদ্যমান। মুক্তিযুদ্ধকে স্বীয় সম্পত্তি বা একক অর্জন মনে করে অন্যদের সবার অবদানকে অস্বীকার করা এবং গড়পড়তা সবাইকে দেশবিরোধী ভাবা স্পষ্ট হটকারিতা ও স্বাধীনতার অঙ্গীকারের চরম লংঘন।
“অনুরূপভাবে নিজেদের ধর্মের একমাত্র সোল এজেন্ট এবং বাকিদের পথভ্রষ্ট, নাস্তিক, বিপথগামী ও মুনাফেক ভাবা চরম অন্যায় ও অধার্মিকতা। এবি পার্টি ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে জাতীয় ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে।”
মঞ্জু বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দেশাত্মবোধ ও দেশপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সকল ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতি সমান আচরণ এবং সামাজিক সুবিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠিত হলেই কেবল মানুষের মুক্তি মিলবে। এবি পার্টির প্রধান লক্ষ্য হল একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।”
‘মতবাদ-মতাদর্শ যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার’- শ্লোগানকে ধারণ করে দল পরিচালনার ঘোষণা দেন মুজিবুর রহমান মঞ্জু।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের দলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজন আছেন। মিসেস বেবী পাঠান এখানে আছে। উনি বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের একজন নারী নেত্রী। উনার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড কিন্তু লেফট ব্যাকগ্রাউন্ড। উনি জাতীয় পার্টিতে ছিলেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ (আসাদুজ্জামান ফুয়াদ) উনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না। ব্যারিস্টার তাজুল ইসলাম সাহেব একজন প্রফেশনাল ল’ ইয়ার হিসেবে (যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের উকিল) সংযুক্ত ছিলেন, পার্টির (জামায়াতে ইসলামী) সাথে সংযুক্ত ছিলেন না। এভাবে এই দলে বিভিন্ন দলের লোকেরা আছে।
“আপনারা আমাকে দেখে হয়ত বলতে পারেন আমার একটা স্ট্রং ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল। আমি মনে করি যে, একটা রাজনৈতিক দলের প্রত্যেকের অতীত ইতিহাস থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তো মুসলিম লীগ করেছিলেন। তাই না? উনি সেখান থেকে এসে নতুন একটা ধারণা দিয়েছিলেন। অনেকে সব সময় বলে যে, বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়। আমরা যে কথাগুলো বলছি খুবই সুস্পষ্ট। আমাদের কথা-বক্তব্য ও কর্মধারায় প্রমাণ হবে আমরা কোন রাজনীতি ধারণ করছি। সেটাকে আপনারা বিবেচনায় নেবেন।”
এবি পার্টির আহ্বায়ক হওয়ায় সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, “করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর এই ক্রান্তিলগ্নে আমার ওপর এই গুরু দায়িত্ব আপনারা অর্পণ করেছেন। কর্মজীবনে দেশের কল্যাণে আমি সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করেছি। দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজনীতির পরিবর্তে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শামিল হয়ে জীবনের শেষ সময়টুকু আমি অতিবাহিত করতে চাই। আপনারা দোয়া করবেন।”
নতুন রাজনৈতিক এই উদ্যোগের আহ্বান নিয়ে দেশের যে প্রান্তে গেছেন সেখান থেকেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের ‘অকুন্ঠ সমর্থন’ পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সোলায়মান চৌধুরী বলেন, “দেশের যে কোনো নাগরিক আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, যে কোনো নাগরিক আমাদের গঠনমূলক কঠোর সমালোচনা করতে পারেন। তাদের সমালোচনা আমাদেরকে পরিশুদ্ধ করবে এবং সামনে এগিয়ে চলার আলোকে আমাদেরকে পথ দেখিয়ে দেবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আমি দেশবাসীকে শরিক হওয়ার আমি উদাত্ত আহ্বান  জানাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমাদের এই উদ্যোগ সফল হবে আমি আশা করি।”

শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.:

Video Gallary